ইতিহাসের আলোয় খুলনা
লেখক: অজিত কুমার নাগ
ভৈরব নদের পশ্চিম তীরে ছবির মত সুন্দর সাজানো শহর খুলনা। এই শহর গড়ে ওঠে ইংরেজ আমলে। কিন্তু প্রাচীন খুলনা ছিল নদীর অপর পারে। এক সময় সেখানে ছিল বিখ্যাত খুল্লনেশ্বরীর মন্দির। এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন প্রাচীন বাংলার এক ধনী বণিক, সারা দেশ জুড়ে ছিল তাঁর ব্যবসা-বাণিজ্য-সমুদ্র পাড়ি দিয়ে যাঁর বাণিজ্যতরী চলে যেত সিংহল, স্বর্ণদ্বীপ, যবদ্বীপ, আরো কত দ্বীপ-দ্বীপান্তর। লক্ষ্মীর ঝাঁপি ভরে উঠত ধন-রত্নে, সমৃদ্ধ হত দেশ। বাংলার সে এক স্বর্ণযুগ। ইনি হলেন কবিকঙ্কন মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে বর্ণিত সেই ধনপতি সওদাগর। ধনপতির দুই স্ত্রী—লহনা ও খুল্লনা। ভক্তিমতি সতী-লক্ষ্মী স্ত্রী খুল্লনার নামে তিনি ভৈরবের পূর্ব তীরে প্রতিষ্ঠা করেন খুল্লনেশ্বরী চণ্ডীদেবীর মন্দির। কালক্রমে লোকমুখে খুল্লনা থেকে এই স্থানের নাম হয় খুলনা।
খুলনা নামের উৎপত্তি সম্বন্ধে একাধিক কিংবদন্তী, লোকগাঁথা প্রচলিত আছে। তবে ঐতিহাসিকরা এই কাহিনীর উপরই বেশী গুরুত্ব আরোপ করেন, কারণ এর মধ্যে ঐতিহাসিক সত্য নিহিত। খুল্লনেশ্বরী মন্দিরের অস্তিত্ব কিছুকাল আগেও ছিল মাত্র ৮০/৮৫ বছর হল মন্দিরটি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অনেকে সে মন্দির দেখেছেন এবং সেকথা তাঁরা লিখেও রেখে গেছেন। মন্দিরের কাছেই ছিল নীলকর রেনী সাহেবের কুঠি। ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর আমলে এখানেই প্রথম একটি থানা এবং পরে খুলনা মহকুমা স্থাপিত হয়। সেটা ছিল ১৮৪২ সন।
অবিভক্ত বাংলায় খুলনাই প্রথম মহকুমা। এই মহকুমার প্রথম ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন মি. এম এ জি শ’ (Mr. M A G Shawe)। এক তাঁবুর মধ্যে বসে শ’ সাহেব মহকুমার কাজ পরিচালনা করতেন। পরে সব অফিস-আদালত উঠে আসে নদীর এপারে, টুটপাড়া গ্রামে। তারপরই বনজঙ্গল পরিষ্কার করে নতুন মহকুমা শহরের পত্তন হয়। সেই সময় খুলনা মহকুমার শাসনাধীন ছিল গোটা বাগেরহাট অঞ্চল, যশোর সদর এবং নড়ালের কিছু অংশ।
খুলনার শাসনব্যবস্থার রদবদল হয়েছে অনেকবার। ইতিমধ্যে গঠিত হয় সাতক্ষীরা মহকুমা (১৮৬১) এবং বাগেরহাট মহকুমা (১৮৬৩)। খুলনা ও বাগেরহাট এই দুটি মহকুমা তখন ছিল যশোর জেলার মধ্যে, আর সাতক্ষীরা ছিল ২৪-পরগনায়। পরবর্তীকালে ব্রিটিশ সরকার খুলনাকে কেন্দ্র করে সুন্দরবন অঞ্চলে একটি নতুন জেলা গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। এই জেলায় থাকে তিনটি মহকুমা—খুলনা সদর, বাগেরহাট এবং সাতক্ষীরা। এই জেলার সীমানা: উত্তরে যশোর জেলা, পূবে বরিশাল ও ফরিদপুর জেলা, পশ্চিমে ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। জেলার আয়তন ৪৭৬৫ বর্গমাইল। এর মধ্যে ২৬৮৮ বর্গমাইলই হল সুন্দরবন। জেলা হিসাবে খুলনার আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৮৮২ সালের পয়লা জুন।
বিভিন্ন যুগে এলাকা ও শাসনব্যবস্থার নানা পরিবর্তন হলেও মানচিত্রে এখন যে স্থান খুলনা জেলা নামে চিত্রিত, সেই ভূখণ্ড কিন্তু বহু প্রাচীন। এর প্রাচীনত্বের নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে খুলনার ইট পাথরে, জেলার জীবনের সর্বত্র। উদাহরণ হিসাবে ভরত ভায়না স্তূপটির কথা বলা যেতে পারে। খুলনা শহর থেকে ১৪/১৫ মাইল দূরে দৌলতপুর সাতক্ষীরা রোডের ধারে ‘ভরত-ভায়না’ গ্রাম। সেখানে আজও রয়েছে প্রকাণ্ড এক ইটের স্তূপ, ৪৫ ফুট উঁচু, এবং এর বেড় ১০০ ফুট। স্তূপটি আগে নাকি আরও উঁচু ছিল। ১৮৯৭ সনের ভূমিকম্পে উপরের ভাগ ভেঙ্গে পড়ায় এখন স্তূপটি অনেক ছোট হয়ে গেছে। চারিদিকে ছড়ানো রয়েছে পুরনো ভাঙ্গা ইট। স্থানীয় লোকদের কাছে এটি ‘ভরত রাজার দেউল’ নামে পারিচিত। কে এই রাজা ভরত? তাঁর সঠিক ইতিহাস আজ আর পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু আকিওলজিসাল ডিপার্টমেন্ট স্তূপটি ভাল করে পরীক্ষা করে যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে তা রীতিমত চাঞ্চল্যকর। তাদের মতে এটি দেড় হাজার বছরের পুরনো বৌদ্ধস্তূপ।
ভরত ভাওনা স্তূপ সম্বন্ধে আর্কিওলজিক্যাল বিভাগীয় সুপারিনটেনডেন্ট কাশীনাথ দীক্ষিত মহাশয় তাঁর রিপোর্টে লিখেছেন:
"Some of the bricks here measure 16"x13"x3", which bespeaks a high antiquity for the
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
আকর্ষণীয় মূল্য
এক বছর
এক মাস
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে
সাবস্ক্রাইব করেছেন? আপনার একাউন্টে লগইন করুন
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments